ফিল্ম উৎসব ১ঃ বিড়াল অন্তর্ধান

কিছুদিন আগে শেষ হওয়া রেইকয়াভিক ফিল্ম উৎসবে দেখা ছবিগুলির উপর যেসব নোট নিয়েছি সেগুলি ঝেড়ে মুছে প্রকাশ করা হবে। আজকের ছবি, দ্য ক্যাট ভ্যানিশেস

বিশ্রী রকমের বাজে ছবি দিয়ে রেইকয়াভিক ফিল্ম উৎসবের অভিজ্ঞতা শুরু হল। গত বছর অলসতা ও ব্যস্ততা মিলিয়ে কোন ছবিই দেখে উঠতে পারিনি, তাই এবার অনেক ছবি দেখার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ছিল। একটা পাস কিনে নিয়েছিলাম, কাজেই সব টিকেট ফ্রি। প্রথম দিন দেখতে গেলাম ইসরায়েরী ছবি রেস্টোরেশন, কিন্তু হলে গিয়ে দেখি ওই ছবি বাতিল, উৎসবে আদৌ দেখানো হবে না। ঢুকে পড়লাম বিড়াল অন্তর্ধান দেখতে।

মনস্তাত্বিক থ্রিলার এমন একটা জানরা, যেখানে সম্ভাব্য জনপ্রিয়তার সাথে আর্ট-হতে-হলে-চাই জটিলতার সমন্বয় সম্ভব। সম্ভব মানেই সবাই পারবে তা নয়, পরিচালক কার্লোস সোরিনও পারলেন না আরকি।

ছবির গল্পের শুরুটা মন্দ নয় — সহকর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে হেমায়েতপুরে এক প্রফেসর (নাম লুই)। লুই অমূলক(?) সন্দেহ করছিলেন যে ওই সহকর্মী তাঁর গবেষণার নোটপত্র চুরি করছে। ঘটনার সময় নিজের স্ত্রী বিয়েট্রিজকেও লুই আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিলেন (এসব ঘটেছে লুই-বিয়েট্রিজের বাড়িতে)। ছবি শুরু হচ্ছে লুই যেদিন মানসিক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন সেদিন। এখন, কার্লোস সোরিন এই পুরো ব্যাপারটা দেখাতে চান না, তাই ছবি শুরু করছেন মানসিক ডাক্তারদের একটি মিটিং দিয়ে। এই মিটিং-এ ৪জন ডাক্তার লুই-এর কেসটা পর্যালোচনা করছেন তাঁকে ছেড়ে দেবার আগ দিয়ে। এই দৃশ্য থেকেই ব্যাকস্টোরিটা আমরা জানছি। দুর্ভাগ্যক্রমে, এই সাধারণ দৃশ্যটিতেই এমন কিছু সমস্যা আছে, যা পুরো ছবিটা সম্বন্ধেই প্রযোজ্য।

প্রথমত, ক্লোজ আপের অবিরাম ও অসহ্য ব্যবহার। টাকা বাঁচানোর জন্য কিনা জানিনা, অধিকাংশ শটই ক্লোজ আপ। এর ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে — সাসপেন্স তৈরি হওয়ার বদলে কাহিনীতে যা কিছু সাসপেন্স ছিল, তাও কেঁচে গেছে। দ্বিতীয়ত, প্বার্শ চরিত্রগুলির ব্যাপারে একটা কি-করি-কোথায়-রাখি অবস্থা। ব্যাপারটা এরকম। কাহিনীগত প্রয়োজনে কিছু প্বার্শচরিত্র দরকার পরিচালকের (যেমন ডাক্তারের দল)। কিন্তু তাদের স্রেফ সহজ ন্যারেশনের জন্য ব্যবহার করে ছেড়ে দেবেন, এটা আবার তাঁর প্রাণে সইছে না। কাজেই ডাক্তারি সীনে চরিত্রচিত্রণের চেষ্টা, হাস্যরস তৈরির চেষ্টা সবই করে গেছেন সোরিন। কিন্তু এই চরিত্রগুলির পরে আর কোন ব্যবহার নেই, কাজেই সকলি গরল ভেল। লুই-বিয়েট্রজের মেয়ে ও তার আদিবাসী বয়ফ্রেন্ড এজাতীয় চরিত্রের আরেক উদাহরণ।

ছাড়া পাওয়া লুই কে নিয়ে বাড়িতে আসার পর বিয়েট্রিজের ভয় ও অস্বস্তিই ছবির মূল অংশ, কিন্তু এখানেও ছবিটির কোন উন্নতি ঘটতে দেখলাম না। বিড়াল মোটিফটা ঠিক আছে, কিন্তু শুধু ও দিয়ে ছবি হয় না।

দুটি ভাল সীন ছিল। একটি হল এক রাতে বিয়েট্রিজের ভয় পেয়ে ঘুম থেকে ওঠার দৃশ্যটি। আরেকটা দৃশ্য আছে ছবির প্রথম দিকে, যেখানে বিয়েট্রিজ লুইকে জিজ্ঞেস করছেন “তোমার চোখে কি জল?”। এই তো।

Advertisement

No comments yet

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.