Archive for August, 2009|Monthly archive page

চিন্তাবাষ্প

মেরিল লিঞ্চের সাথে আমাদের ফুটবল খেলা ছিল। বিস্ময়বিহ্বল চিত্তে খেলতে গেলাম, কারণ আমার ধারণা ছিল কোম্পানীটি কিছুদিন আগে লোপ পেয়েছে। ঠিক করেছিলেম, এ নিয়ে তাদেরকে একটু স্লেজিং করব, কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর তারা এমন দৌড়াদৌড়ি শুরু করল যে জিভ স্মেজিং এর কাজে ব্যবহার করা যায়নি, বের করে রাখতে হয়েছে। ৭-৫ গোলে হেরে হাঁপাতে হাঁপাতে বেরিয়ে এসে একটি টেক্স-মেক্স খাবারের দোকানে ঢুকলাম।

দোকানে প্রচণ্ড গরম, দু-দুটো ফ্যান ঘুরেও কিছুতে কায়দা করতে পারছেনা। দোকানে কোন খদ্দের নেই, আর দোকান চালাচ্ছে যারা তারা সবাই চীনে। টেক্স-মেক্স খাবার যেহেতু মেক্সিকো এবং তার লাগোয়া টেক্সাসের খাবারের সমন্বয়, কাজেই এই চীনেদের দেখে কিছুটা অবাক হলাম, ক্লান্ত এবং আক্ষরিক অর্থেই উত্তপ্ত মস্তিষ্কে নিম্নলিখিত চিন্তাগুলি ভেসে বেড়াতে লাগল –

১. চীনেরা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। টেক্স-মেক্স এর দোকান এরা চালাচ্ছে কেন?
২. কি খাওয়া যায়?
৩. এদের কি কোন সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্রও নেই? একদম সাধারণ একটা টেক্স-মেক্স এর দোকান করে রেখেছে, একটু চীনে ছোঁয়া থাকলেও তো হত!
৪. খাব কি? চীনে চা কি পাওয়া যাবে? মনে হয়না — যা ভেবেছিলাম, ব্যক্তিত্বহীন দোকান। বুরিতো খাই বরং।

জিজ্ঞেস করলাম “সব্জির বুরিতো আছে নাকি?” সামনে দাঁড়ানো ভদ্রমহিলা আঙুল দিয়ে কাগজে ছাপানো একটা মেনুতে দেখিয়ে দিলেন, সবজি বুরিতো আছে। সেটা অর্ডার দিয়ে সেই “সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র”-এর ব্যাপারটাই আবার ভাবছি দেখি পাশে একটা বড় অ্যাকোরিয়ামে কিছু লাল মাছ ঘোরাফেরা করছে। চীনে রেস্টুরেন্টে প্রায়শই অ্যাকোরিয়ামে থাকে, এবং সম্পর্কটি গভীর বলেই আমার সন্দেহ, কারণ অ্যাকোরিয়ামের সাথে চীনে বাগানের মিলটা চোখে পড়ার মত। এটা চোখে পড়ার পর একটু লজ্জিত হাসি হেসে বাড়িয়ে দেয়া বুরিতো-টি হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসলাম, আমার অবান্তর হাসিতে অবাক হয়ে ভদ্রমহিলা তাকিয়ে রইলেন।

প্রচুর ব্রকলি দেয়া বুরিতোটি চিবাতে চিবাতে একটা “সাউথ ইন্ডিয়ান কোশার” দোকানের নিচ দিয়ে হেঁটে চলে আসলাম। খেতে জঘন্য লাগল।