স্টাইনবেক সরলতা ১
জন স্টাইনবেকের সাথে আমার পরিচয় জন ফোর্ড-এর বরাতে। স্টাইনবেকের বিখ্যাত উপন্যাস গ্রেপ্স অভ র ্যাথ-এর বিখ্যাত চিত্ররূপ দিয়েছিলেন ফোর্ড। এটি আমার সবচেয়ে পছন্দের ফোর্ড-ছবি নয়, সে সম্মান গত বছর খানের ধরে “আমার প্রিয়তমা ক্লেমেন্টাইন” ছবিটিকে দিয়ে আসছি। তবুও জন ফোর্ডের অধিকাংশ চেনা-জানা ছবির মতই, গ্রেপ্স অভ র ্যাথ-এর সৌন্দর্য অসাধারণ। কিন্তু ফিল্মের সাথে পরিচয় মানে লেখকের সাথে খুব ভাল পরিচয় নয়, বিশেষত ফিল্মমেকার যখন শক্তিশালী, আর বিশেষত যখন ছবি আর ফিল্মের মধ্যে বেশ বেমিল রয়েছে বলে জানা যায়। স্টাইনবেকের সাথে আমার সম্যক পরিচয় ঘটেছে খুব সম্প্রতি একটি বই পড়ে।
নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশনের পাশে একটা বড় বইয়ের দোকান আছে — কাজ না থাকলে, বা থাকলেও, সেখানে মাঝে মাঝে ঘোরাফেরা করি। সেখান থেকেই স্টাইনবেকের একটি বই কিনেছিলাম, বইটার নাম অভ মাইস এন্ড মেন। স্টাইনবেকের এক সারি বইয়ের মধ্যে এটা বাছবার কারণ বইটির বেধ — শ’ খানেক পৃষ্ঠা হবে বড়জোড়। বই পছন্দের অলসতা-সম্ভূত এই কারণটি বলতে লজ্জা পেতে পারতাম, কিন্তু পাচ্ছিনা, কারণ এটি আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বইগুলির অন্যতম।
বড় লেখকের মোটা বই ভাল, না সরু বই? মোটা বই খুব ভালই হতে পারে, তবে কোন বই আছে, যেগুলোতে লেখকের পরিশ্রমের একটা কঠোর ছাপ, ফলে পড়তেও খুব কষ্ট হয়। যেমন, পুলিটজার পুরস্কার বিজয়ী ফিলিপ রথের অ্যামেরিকান প্যাস্টোরাল নামে একটা বই পড়ছিলাম, অর্ধেক পড়ে ছেড়ে দিয়েছি। রথ খুব পরিশ্রমী, তীক্ষ্নবুদ্ধি লেখক সন্দেহ নেই, কিন্তু তার জটিল গদ্য ছোলাসুদ্ধ কাঁঠালের মত আর উদরসাত্ করতে আর পারছিলাম না।
স্টাইনবেকের গদ্য তুলনায় সরল। এভাবে শুরু করছেন তাঁর জাদুকরী গল্প –
সোলেদাদের কয়েক মাইল দক্ষিণে এসে সালিনাস নদী পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চলে — নদী গভীর, সবুজ। আর তার জল বেশ গরম…
স্টাইনবেকের ইংরেজীতে এই বাক্যদুটির মধ্যে কি যেন আছে আশ্চর্য রসায়ন, বেশ বার কয়েক বার পড়ে আমার মনে হয়েছে বাক্য গঠনের সরলতা প্রথম বাক্যের শেষ অংশের “গভীর” শব্দটার সাথে মিশে এই অভিঘাতটা তৈরি করেছে।
চলবে…
No comments yet
Leave a reply