হাডসনের ধারে বাড়ি ২
দেশের প্রেসিডেন্টের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা দরকার, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার মল্লযোদ্ধা হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু রাজনীতি অদ্ভুত জীব। ইতিহাস ও প্রাক-ইতিহাসের অধিকাংশ সময় জুড়ে নেতা হিসেবে বলবান বল্লম-কুড়াল-তলোয়ার ধারী সেনাপতি শ্রেণীর লোকদের দেখার ফলেই হোক, আর যে কারণেই হোক, প্রেসিডেন্টদের শুধু বুদ্ধিমান, স্থিতধী ও সুস্থ হলেই চলেনা, রীতিমত দৌড়ঝাঁপ করে না দেখালে তার প্রতি ঠিক আস্থা আসেনা। ১৯২০-এর দশকে ফ্রাংকলিন রুজভেল্ট পোলিও আক্রান্ত হয়ে কোমর থেকে নীচের দিকে সম্পূর্ণ অশক্ত হয়ে পড়েন। এই তথ্য লুকোনোর জন্য রীতিমত কসরত করতে হয়েছে তাঁকে। লোহার একটা খাঁচা পায়ে মুড়ি দিয়ে কোন মতে লোক সমক্ষে দু-এক পা হাঁটতে পারতেন। তামাটে রংয়ের সেই খাঁচা জাদুঘরে দেখে টার্মিনেটরের ঠ্যাং বলে সন্দেহ হচ্ছিল। হাঁটার কষ্টকর অভিনয় বা গাড়িতে চড়ার সময়টা ছড়া অধিকাংশ সময় বসে থাকতেন একটা হুইল-চেয়ারে। বাড়ির লাইব্রেরীতে এমন একটি হুইল চেয়ার রাখা ছিল — আমাদের গাইড জানালেন যে পায়ের ওপর চাদর এমন ভাবে রাখতেন রুজভেল্ট যে চেয়ারটি যে হুইল চেয়ার সেটা অতিথিদের বোঝবার কোন উপায় থাকত না। এসব দেখেশুনে দোতলায় উঠে এক প্রান্তে একটা লিফট দেখলাম। দোতলা বাড়ির নীচতলা থেকে ওপরে সিঁড়ি বেয়ে যেহেতু উঠতে পারতেন না, কাঠের একটা লিফট ছিল রুজভেল্টের ব্যবহারের জন্য। গাইড যখন জানালেন যে এই লিফট তড়িত্চালিত নয়, হাতে দড়ি টেনে হুইলচেয়ার সুদ্ধ নিজেকে রুজভেল্ট টেনে তুলতেন এই লিফটে করে, তখন মনে হল তার কোমর-পায়ের সমস্যা লুকোনোর জন্য ভদ্রলোক এত কসরত না করলেও পারতেন। এই লিফট টেনে তোলার একটি ভিডিও বাজারে ছাড়লেই অন্য কিছুর প্রয়োজন পড়ত না, মার্কিন জনগণ তো আশ্বস্ত হতই, স্টালিনের সাথে পূর্ব ইউরোপ নিয়ে দর কষাকষিটাও হয়ত সহজ হয়ে যেত।
শেষ।
No comments yet
Leave a reply